শব্দ কাকে বলে?

User Avatar

By sayantan

Published on:

প্রশ্নঃ শব্দ কাকে বলে?

বাংলা ব্যাকরণে “শব্দ” একটি মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। ভাষা গঠনের সবচেয়ে ছোট অথচ অর্থবোধক একক হলো শব্দ। যখন আমরা কিছু বলি বা লিখি, তখন আমরা এক বা একাধিক শব্দের মাধ্যমে আমাদের চিন্তা, ভাব, অনুভূতি বা বার্তা প্রকাশ করি।


সংজ্ঞা:

শব্দ হলো ধ্বনির এমন গঠিত রূপ, যা কোন নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে।

অর্থাৎ, যখন ধ্বনির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বোঝানো যায়, তখন সেটিকে শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:

  • “পানি” — এই শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে একটি নির্দিষ্ট জিনিসের (পান করার উপযোগী তরল) ছবি আসে।
  • “ছাত্র” — মানে হলো একজন শিক্ষার্থী।

শব্দের বৈশিষ্ট্য:

  1. ধ্বনিসমষ্টি: শব্দ গঠনের জন্য একাধিক ধ্বনি একত্রিত হয়। যেমন: “বই” শব্দে আছে “ব” + “ই” ধ্বনি।
  2. অর্থবোধক: এটি অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। যেমন, “আলো” মানে হচ্ছে “উজ্জ্বলতা”।
  3. প্রয়োজনীয়তা: মানুষ নিজের ভাব প্রকাশ বা যোগাযোগের জন্য শব্দ ব্যবহার করে।

শব্দের শ্রেণিবিভাগ:

শব্দ বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি উল্লেখ করা হলো:

১. গঠন অনুসারে:

  • মূল শব্দ: যা অন্য কোনো শব্দ থেকে তৈরি নয়। যেমন: জল, আগুন।
  • ব্যুৎপন্ন শব্দ: অন্য শব্দ থেকে গঠিত। যেমন: পান + ইয়া = পানীয়।

২. অর্থ অনুসারে:

  • সমার্থক শব্দ: যেগুলোর অর্থ কাছাকাছি বা একরকম। যেমন: জল – পানি।
  • বিপরীতার্থক শব্দ: যাদের অর্থ বিপরীত। যেমন: আলো – অন্ধকার।

৩. শব্দের উৎপত্তি অনুসারে:

  • তদ্ভব: প্রাচীন সংস্কৃত শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসা। যেমন: ঘর, মাছ।
  • তৎসম: মূল সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত বা সামান্য পরিবর্তিত শব্দ। যেমন: গৃহ, মৎস্য।
  • দেশি: বাংলাভাষার নিজস্ব শব্দ। যেমন: চাক, ঢেঁকি।
  • বিদেশি: অন্য ভাষা থেকে আগত। যেমন: রুটি (ফারসি), চেয়ার (ইংরেজি)।

উদাহরণ সহ ব্যবহার:

  • শব্দ: “পাখি”
  • ধ্বনি: পা + খি
  • অর্থ: এক প্রকার প্রাণী যা আকাশে উড়ে বেড়ায়।

উপসংহার:

শব্দ হলো ভাষার প্রাণ। এটি ধ্বনি ও অর্থের সমন্বয়ে গঠিত একক, যার মাধ্যমে মানুষ ভাব প্রকাশ করে। ভাষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো শব্দ। শব্দ ছাড়া বাক্য হয় না, বাক্য ছাড়া ভাব প্রকাশ অসম্ভব।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

 

WhatsApp

তুমি কি ফ্রী তে PDF নিতে চাও ?

Powered by Webpresshub.net