যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অনেকের মোবাইলে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা কেন ঢুকছে না? ট্রেজারি থেকে বা মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা সমেত ১৫০০ টাকা ক্রেডিট হওয়ার SMS-ও আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি, অসংখ্য আবেদন বাতিল করা হচ্ছে বা অনলাইনে এন্ট্রি করা যাচ্ছে না, যার ফলে অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন না।যুবসাথী প্রকল্প, যুবসাথী প্রকল্পের টাকা কবে ঢুকবে, Jubasathi Prokalpo, Jubasathi Scheme Payment, Yuba Sathi Application Rejected, West Bengal Yubasathi Update, যুবসাথী ফর্ম বাতিল.
কী কী ভুলের জন্য আপনার যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন বাতিল হতে পারে বা টাকা আটকে যেতে পারে? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১. ট্রেজারির SMS এলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকার সমস্যা
যাদের মোবাইলে ট্রেজারি থেকে SMS এসেছে, তারা অবশ্যই খেয়াল করবেন যে SMS-এ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের শেষ ৪টি সংখ্যা লেখা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের টাইপিং ভুলের কারণে ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর সিস্টেমে এন্ট্রি হয়ে গেছে।
- সমাধান: SMS-এ আসা ৪টি সংখ্যার সাথে আপনার ব্যাংক পাসবই মিলিয়ে নিন। যদি কোনো অমিল থাকে, তবে দ্রুত আপনার সমস্ত অরিজিনাল ডকুমেন্টস নিয়ে বিডিও (BDO) অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধন করে নিন।
২. একই মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক আবেদন (অফলাইন ফর্মের ক্ষেত্রে)
যারা অফলাইনে বা ক্যাম্পে ফর্ম জমা দিয়েছেন এবং পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন, তারা বড় সমস্যায় পড়ছেন।
- কারণ: অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির সময় প্রথম ব্যক্তির তথ্য সফলভাবে সাবমিট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওই একই নম্বর দিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির তথ্য এন্ট্রি করতে গেলেই সিস্টেমে ‘Already Submitted’ দেখাচ্ছে। ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তির আবেদন অনলাইনে এন্ট্রি করা যাচ্ছে না। সরকার যদি এই সিস্টেম আপডেট না করে, তবে এই ফর্মগুলো অফিসেই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। (অনলাইনে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্য এই সমস্যা হয়নি)।
৩. টাকা কি DBT-র মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে যে যুবসাথীর টাকা DBT (Direct Benefit Transfer) এর মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে কি না।
- প্রকৃত তথ্য: হাতে সময় কম থাকায় সরকার এই প্রকল্পের টাকা DBT-র পরিবর্তে পুরোনো NEFT প্রসেসেই পাঠাচ্ছে। অর্থাৎ, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড ধরেই টাকা পাঠানো হচ্ছে। আপনি আবেদনের সময় যে অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়েছেন, টাকা তাতেই ঢুকবে। ডিবিটি লিঙ্ক থাকা বা না থাকার ওপর টাকা পাওয়া নির্ভর করছে না।
৪. বয়সের গরমিল থাকলে সাথে সাথে বাতিল
যুবসাথী প্রকল্পের জন্য বয়সের একটি নির্দিষ্ট সীমা (যেমন ২১ বছর) রয়েছে। অনেকেই যাদের বয়স ২১ হয়নি বা ৪০ পেরিয়ে গেছে, তারা ফর্মে বয়স বাড়িয়ে বা কমিয়ে লিখেছেন।
- সিস্টেমের নজরদারি: ডাটা এন্ট্রি করার সময় আপনার জন্মতারিখ দিলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স হিসেব করে নিচ্ছে। যদি দেখা যায় আপনার বয়স নিয়মের মধ্যে পড়ছে না, তবে ভেরিফিকেশনের সময় আপনার আবেদন সাথে সাথে রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছে।
৫. ডিজিটাল বা পেমেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্যা
অনেকে Airtel Payment Bank, India Post Payment Bank বা Jio Payment Bank-এর মতো ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়েছেন।
- সমস্যা: ট্রেজারির সিস্টেমে বা টাকা পাঠানোর লিস্টে অনেক সময় এই ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর অপশন আসছে না। ফলে তাদের টাকা পাঠাতে সমস্যা হতে পারে। আশা করা যায়, দপ্তর খুব শিগগিরই এই ব্যাংকগুলোর নাম সিস্টেমে যুক্ত করে দেবে।
৬. যে ছোটখাটো ভুলগুলোর জন্য আবেদন বাতিল হচ্ছে না
আপনাদের মনে অনেক ভয় কাজ করছে যে ছোটখাটো ভুলেও হয়তো আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। সরকার কিন্তু উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ারই চেষ্টা করছে। নিচের এই বিষয়গুলোর জন্য আপনার আবেদন বাতিল হবে না:
- পেশা (Occupation): আপনি ফর্মে Student, Self-employed বা Unemployed যাই লিখুন না কেন, যোগ্য হলে আপনি টাকা পাবেন।
- অন্য প্রকল্পের সুবিধা: আপনি ‘কৃষক বন্ধু’ বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পেলেও যুবসাথীর টাকা পাবেন। ফর্মে Yes বা No-তে টিক দেওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হচ্ছে না।
- ডকুমেন্টস আপলোড: অনলাইনে অরিজিনাল আপলোড করেছেন নাকি জেরক্স, অথবা জেরক্স কপিতে সই (Self-attested) করতে ভুলে গেছেন— এই ধরনের সাধারণ ভুলের জন্য কারও নাম কাটা যাচ্ছে না।
(বি.দ্র: তবে আপনি যদি মাধ্যমিকের ফেক অ্যাডমিট কার্ড বা নকল তথ্য দেন, তবে ধরা পড়লে নিশ্চিতভাবেই ফর্ম বাতিল হবে।)
শেষ কথা
যারা এখনও টাকা পাননি, একদমই দুশ্চিন্তা করবেন না। টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। পুরো মার্চ মাস জুড়ে ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন চলবে এবং ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হবে। সরকারি অফিসে কর্মী সংখ্যা সীমিত থাকায় ডাটা এন্ট্রিতে একটু সময় লাগছে। আপনার পরিচিত কেউ আগে পেয়ে থাকলেও, আপনিও হয়তো কয়েকদিন পর টাকা পেয়ে যাবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা!
যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।





